বাচ্চাদের সবচেয়ে প্রিয় খেলনা, বাবা মার স্মার্ট ফোন বা ট্যাবলেট! একটু চিন্তার বিষয় !!!

8সময় কতটা যে পাল্টেছে ভাবতেই অবাক লাগে। আজকের দুই বছরের বাচ্চাদেরও নাকি সবচেয়ে প্রিয় খেলনা বাবা মার মোবাইল ফোন বা ট্যাবলেট। টাচ স্ক্রিন সঙ্গে এ্যান্ড্রয়েড বা আইওএস এর শত শত এপ্লিকেশান, গেমস বাচ্চাদের মাতিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট। এগুলোতে বাচ্চাদের জন্য অনেক ভালো ভালো গেমস বা এডুকেশনাল এ্যাপ্লিকেশান আছে, যা আপনার বাচ্চার বা ফ্যামিলির ছোট ভাই বোনের ভালো লাগতেই পারে। তবে এর একটা বিপরীত চিত্রও আছে। আজ একটা ভিডিও দেখে বিষয়টা আরো বেশি ভাবালো।

গতকাল রাতের কথা, ছোট বোনদের সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলাম আড়ং এ ঈদ শপিং করতে। বড়দের যেমন ভিড়, বাচ্চা কাচ্চাও কম না। কিউট কিউট ছোট ছেলে মেয়ে ঘুড়ে বেরাচ্ছে চতুর্দিকে। কেউ বাবা মার কোলে, আবার কেউ নিজেই নিজের পোশাকটি পছন্দ করার চেষ্টা করছে। একটা ২-৩ বছরের মেয়ে দেখি, হ্যাঙ্গারে ঝুলানো ড্রেস থেকে তার পছন্দের ড্রেসটি বেছে নেয়ার চেষ্টা করছে। খুব মজা লাগছিল দেখতে। ভাবছিলাম আমাদের সময়ের কথা, আমরা মনে হয় হাই স্কুলে উঠেও নিজের পোষাক নিজে পছন্দ করে কিনি নাই। ক্লাস এইট নাইন থেকে হয়তো একটু একটু মতামত দিতে শুরু করেছিলাম। এখনকার ছেলে মেয়েরা চিন্তা করেন, কত ফাস্ট! স্কুলের ছেলে মেয়েরা এখন মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। সেদিন বাসার পাশের রাস্তায় দেখি ক্লাস ফোর কি ফাইভে পড়ে দুটো ছেলে তাদের মোবাইল বের করে কি যেন করছে। যতদূর মনে হলো, তারা ব্লু-টুথ দিয়ে গান ট্রান্সফার করছে। ছেলে দুটোর দিকে তাকিয়ে দেখছিলাম, আর ভাবছিলাম ওরা কত বড় হয়ে গেছে এই বয়সেই। আসলেই আমার মাঝে মাঝে মনে হয় এখনকার ছেলে মেয়েরা কম বয়সেই বড় হয়ে যায়। তাদের লাইফও কি কম টাফ, কম কম্পিটিশান ? স্কুলে পড়ালেখার কম্পিটিশান, তার বাইরে এক্সট্রা কারিকুলার কত কি? কিন্তু অনেক কিছু থাকলেও সত্তিকারের খেলাধুলাটা মনে হয় অনেক কমে গেছে। স্কুল গুলা দেখি, একেকটা খালি বিল্ডিং কোন মাঠ নাই। বাড়ির আস পাশেও মাঠ নাই। বিকেলে বাইরে গিয়ে কাদা ধূলো মেখে, মাগরিব নামাজের আগে বাসায় ফিরে হাত মুখ ধুয়ে পড়তে বসার মজা এখনকার শহরের কয়জন শিশু পায়? ওদের কি দোষ, আমরাই তো জোড় করে ওদের কম বয়সে বড় করে ফেলছি।

গত রাতে আড়ং এ তোলা ছবি

গত রাতে আড়ং এ তোলা ছবি

যাক যা বলছিলাম, অন্য লাইনে চলে না যাই। গতকাল রাতের কথা, আড়ং এর শোরুমে। তো অনেক ছোট ছোট ছেলে মেয়ে। একটা বিষয় খেয়াল করলাম, অনেক বাবা মাই তাদের বাচ্চা যেন ব্যস্ত থাকে বা বিরক্ত না করে সে জন্য নিজেদের স্মার্ট ফোনটা ছেলে মেয়ের হাতে দিয়ে রেখেছেন। তারা বড্ড ব্যস্ত ওটা নিয়ে, গেম খেলায়। মা বাবাও খুশি, আরামে শপিং করা যাচ্ছে। কেউ কেউ আবার দেখি গেম প্যাড বা পিএস্পি নিয়ে এসেছে আরো রিলাক্স থাকার জন্য। হ্যা এখনকার ছোট ছেলে মেয়েদের এসবি খেলনা স্মার্ট ফোন, ট্যাবলেট, কম্পিউটার, গেমিং কনসোল এসব নিয়েই তারা ব্যস্ত। আমাদের অনেক কাস্টমারও আছেন, যারা ট্যাবলেট পিসি নেয় শুধু বাচ্চাদের জন্য। কেউ কেউ আবার বলে তার বেবি তার আইফোন বা দামি স্মার্ট ফোনটা নিয়ে খুব ব্যস্ত থাকে, সেটাকে অত্যাচার থেকে বাচানোর জন্যই তার বেবির জন্য একটা ট্যাব কিনছেন। এসব গ্যাজেট বাচ্চারা ব্যবহার করবে ঠিক আছে, কিন্তু একটু খেয়াল রাখবেন যেন সত্যিকার খেলাধুলা বা সত্যিকারের খেলনা গুলো তারা মিস না করে। আমি চাইনা বাচ্চারা তারাতারি বড় হয়ে যাক, আপনারাও নিশ্চই চান না?

হঠাত করে, গ্যাজেটের বিপক্ষে কথা বলছি? একটা ভিডিও দেখে কথাগুলো ভাবছিলাম, ভাবতে ভাবতেই লিখে ফেললাম। তবে ঠিক গ্যাজেট এর বিপক্ষে বলছি না, এর প্রপার ব্যবহারের কথা বলছি। লাইফটা শুধু গ্যাজেটের মধ্যে থেকে গেলেই তো হবে না, সব ভার্চুয়াল হলে রিয়েল লাইফটাই হাড়িয়ে যাবে। মাঝে মাঝে নিজেই ভাবি, দুনিয়াটা এখন যেন শুধুই স্ক্রিন। সারাদিনে শুধু সাইজটা বদলায়, কিন্তু ওই এক স্ক্রিন থেকে অন্য স্ক্রিন ৪”, ১৫”, ৭”, ২১” এসবের মধ্যেই ঘুর পাক খাচ্ছি। কতদিন কাদা পানিতে ফুটবল খেলিনা !

যাক আমরা তাও ওই লাইফটা একসময় পেয়েছি। কিন্তু আজকের জেনারেশান। দেখবেন আপনার আশপাশের খুব ছোট বাচ্চাগুলো আপনার নিজের বা পরিবারের কারো, শুধু গ্যাজেটই যেন তাদের খেলনা না হয়। তারা যেন সত্যিকারের খেলনার সাধ পায়। একটু বাইরের আলো বাতাস গায়ে মাখে।

এই সেই ভিডিও যা দেখে এতগুলো কথা বললাম, দেখবেন অবশ্যই। এটা মূলত একটা খেলনা কোম্পানির এ্যাড, বাট দিস ইজ ফ্যাক্ট। পারলে এই এ্যাড সিরিজের প্রত্যেকটাই দেখবেন। দেখতে খুব মজা লাগে, বাট এট দ্যা এন্ড TOYS SHOULD BE TOYS.

1 comments
NomaniRuhulOmi
NomaniRuhulOmi

oshadharon article..jajak Allah khair for this post..:)